Category Archives: ইসলামের ইতিহাস

প্রসঙ্গ : কদমবুচি ও ইসলাম

পড়া হলে লেখাটি শেয়ার করতে ভুলবেননা

লিখেছেন,মাওলানা আ.স.ম. এয়াকুব হোসাইন

ওয়েব সম্পাদনায়,মুহাম্মদ গোলাম হুসাইন

ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র ‘দ্বীন’ একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। দোলনা থেকে কবর পযর্ন্ত এ ব্যবস্থার আলোকে একজন মুসলমানকে জীবন যাপন করতে হয়। মানব চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন, ন্যায়নীতি ও সুবিচার ভিত্তিক শান্তি শৃংখলাপূর্ণ গতিশীল সমাজ গঠন ও সংরক্ষণে ইসলামের কোন বিকল্প নেই, হতেও পারেনা।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন :

ان الدين عند الله الاسلام
অর্থাৎ, ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ‘দ্বীন’।১

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে :

ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه-
অর্থাৎ, কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ‘দ্বীন’ গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবূল করা হবেনা।২

ইসলামী আর্দশ ও শিষ্টাচারিতা অতি চমৎকার। ছোট-বড় সকলের প্রাপ্য অধিকার। স্নেহ, ভালবাসা, সম্মান, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের যে শিক্ষা ইসলামে দেয়া হয়েছে তা অন্য কোন ধর্মে দেখা যায় না।

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন

Read the rest of this entry

Advertisements

ঈদ পরিচিতি

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।

লিখেছেন,আলহাজ্ব মাওলানা কাজী আব্দুল ওয়াজেদ সাহেব।

অধ্যাপক,ফিক্‌হ বিভাগ,জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়া,চট্টগ্রাম।

 

আভিধানিকঅর্থঃ- 

ঈদ(عید)আরবী শব্দ।এটার আভিধানিক অর্থ ما یعاود مرۃ بعد اخر “একের পর এক যা বার বার আসে।”

শাব্দিক দৃষ্টিতে মিলাদের অর্থ হল জন্ম সাল(ইসমে জরফে জামান) আর বর্তমান মিলাদের অর্থ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর শুভাগমনের দিনকে স্মরণ করে ঐ তারিখ বা ঐ মাসে বা যে কোন সময়ে অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে আনন্দ উদ্‌যাপন করা।এ মিলাদ,মৌলুদ বা মিলাদুন্নাবী অনুষ্ঠান যেহেতু যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে তাই একে “ঈদে মিলাদুন্নাবী”নামে নামকরণ করা হয়েছে।

সামগ্রিক অর্থ ঈদ মানে খুশি,আনন্দ,প্রসন্নতা,যা বার বার আসে ইত্যাদি।সুতরাং মিলাদুন্নাবী যেহেতু বছরের চাকা ঘুরে শান্তির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে বার বার আবির্ভূত হয়;সেহেতু একে “ঈদে মিলাদুন্নাবী” নামে নামকরণ অধিক যুক্তিসঙ্গত।

ঈদে মিলাদুন্নাবী অর্থ নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর শুভাগমন উপলক্ষে খুশি উদযাপন করা,হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর শুভাগমনকে নেয়ামত হিসেবে গ্রহন করা এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর আগমন সম্পর্কে Read the rest of this entry

যাঁর কারনে জগৎ সৃষ্টি

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।

লিখেছেন,বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা  মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

বর্ণিত আছে যে,আল্লাহ তায়ালা চারটি শাখা বিশিষ্ট একটি অতি সুন্দর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছেন।সেটার নাম ‘শাজারুল ইয়াক্বীন’(ইয়াক্বীনবৃক্ষ)।অতঃপর আল্লাহ তায়ালা ঐ বৃক্ষের উপর ‘নূর-ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা’(হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর নূর)-কে একটি ‘তাউস’(ময়ূর)-এর আকারে বসিয়ে দিলেন।তারপর ঐ ‘তাউস’ সেখানে সত্তর হাজার বছর আল্লাহ তায়ালার ‘তাসবীহ’(স্ততিবাক্য)পাঠ বা বর্ণনা করতে থাকে।তারপর আল্লাহ তায়ালা ‘আয়না-ই হায়া’(লজ্জা-দর্পণ)বানিয়ে তাউসের সামনে রেখে দিলেন।তখন আয়নায় তাউস আপন সৌন্দর্য ও লাবন্য দেখে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের দরবারে পাঁচটি সাজদা করলো,যেগুলোকে ‘ফরয’সাব্যস্ত করা হয়েছে।এ কারনে আল্লাহ তায়ালা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর উম্মতের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্বত নামাজ ফরয করেছেন।

পার্শবর্তী বহুতল ভবন হতে তোলা মসজিদে নববী শরীফ এর রাতের মনোরম দৃশ্য
পার্শবর্তী বহুতল ভবন হতে তোলা মসজিদে নববী শরীফ এর রাতের মনোরম দৃশ্য

তারপর ‘তাউস’ (অর্থাৎ নূর-ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা)-এর প্রতি যখন আল্লাহ তায়ালা রহমতের দৃষ্টিতে তাকালেন,তখন তিনি Read the rest of this entry

সাদক্বায়ে জারিয়ার সাওয়াব পেতে শেয়ার করুন…….

হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সংক্ষিপ্ত জীবনী – [শেষ পর্ব]

“প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না”

সম্পাদনায়,মুহাম্মদ গোলাম হুসাইন

মাদ্রাসা নিযামিয়া পরিত্যাগ এর পর থেকে………………

বায়তুল মাকদাস গমন ও নির্জনবাস অবলম্বন-

দুই বৎসর দামেশক নগরে অবস্হানের পরে তিনি বায়তুল মাকদাসে গমন করেন।তথায় তিনি ‘সাখরাতুসসাম্মা নামক বিখ্যাত প্রস্তরের নিকটবর্তী এক নির্জন প্রকোষ্টে অবস্হান করতে থাকেন। তিনি তাতে সর্বদা জিকির আজকারে মশগূল থাকতেন এবং সময় সময় নিকটবর্তী পবিত্র মাজার সমূহ যিয়ারত করতেন।

মকামে খলীলে তিনটি প্রতিজ্ঞা –

বয়তুল মাকদাসের যিয়ারত শেষ করে ‘মকামে খলীল’ নামক স্হানে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর মাযার শরীফ যিয়ারত করেন।সেখানে তিনি তিনটি প্রতিজ্ঞা করেন-
১।কখনও কোন রাজ দদরবারে যাব না।
২। কোন বাদশাহর কোন দান বা বৃত্তি গ্রহন করবো না।
৩।কাহারও সঙ্গে বিতর্কে প্রবৃত্ট হব না।
বায়তুল মাকদাসে অবস্হান কালে হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি অনেক সময় বায়তুল আকসায় Read the rest of this entry

হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সংক্ষিপ্ত জীবনী – [১]

“প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না”

সম্পাদনায়,মুহাম্মদ গোলাম হুসাইন

ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর আসল নাম  আবু হামিদ মুহম্মদ।তাঁর পিতা ও পিতামহর উভয়ের নামই মুহম্মদ। তিনি খোরাসানের অন্তর্গত তুস নগর এর গাজালা নামক স্থানে জন্ম গ্রহন করেন। তাই সবাই উনাকে ঐ স্থানের নাম অনুযায়ী গাজ্জালী নামেই চিনে।
ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর যুগে পারস্যের সম্রাট ছিলেন সলজুক বংশীয় সুলতান রুকনুদ্দীন তোগরল বেগ। সলজুগ বংশীয় সুলতানের রাজত্বকাল মুসলমানদের চরম উন্নতির যুগ ছিল। তাঁদের পুর্বে ইরান শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত বুইয়া বংশীয় রাজাদের শাসনাধীন ছিল।এই সময় মুসলিম শক্তি সমূহ পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ,আক্রমন-প্রতিআক্রমনের ফলে দুর্বল হয়ে পরেছিল। কিন্তু সলজুক বংশীয় তুর্কীগন ইসলাম গ্রহন করলে তাদের প্রাক ইসলামী স্বভাব চরিত্র ও মুল্যবোধে বিরাট পরিবর্তন সাধিত হয় এবং তাদের মাধ্যমে এক অনুপম সভ্যতা গড়ে উঠে। ফলে Read the rest of this entry

ইসলাম-ই নারীদের শ্রেষ্ঠ হক্ব সংরক্ষনকারী

“প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না”

 

আওওয়ালু শাফিয়িন, আওওয়ালু মুশাফ্ফায়িন, আওওয়ালু মাঁইইয়ুর্হারিক হালক্বাল জান্নাতি হাবীবুল্লাহ হুযূর পুর নূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা) তথা একমাত্র ইসলামই মহিলাদের শ্রেষ্ঠ হক্ব সংরক্ষণকারী।মহান আল্লাহ পাক কুরআন এ পাকে বলেন,

يايها الناس انا خلقنكم من ذكر وانثى وجعلنكم شعوبا وقبائل لتعارفوا ان اكرمكم عند الله اتقكم

অর্থ: “হে মানবজাতি। নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং আমি তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের পরিচয় লাভ করতে পার, নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহ পাক এর নিকট ঐ ব্যক্তি  সবচেয়ে সম্মানিত  যে বেশি মুত্তাকী।” (সূরা হুজরাত : আয়াত ১৩)

ইসলামে মহিলাদের মর্যাদা ও সম্মান:

ইসলামে পুরুষ ও মহিলা তথা আদম সন্তানদের মর্যাদা ও সম্মান সম্পর্কে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- Read the rest of this entry

“মিলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম” স্থানঃ মসজিদে নববী,মদিনাতুল মুনাওয়ারা,সৌদি আরব।

“প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না”

আমাদের দেশে কিছু সংখ্যক মুসলিম ভাই বোন আছেন,যারা কিনা মিলাদ ও ক্বিয়ামের পক্ষের দলীলকে অস্বীকার তো করেনই।সাথে সাথে মিলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম; ইসলামের পূণ্যভুমি মক্কা ও মদিনাতে অনুষ্ঠিত হয় না বলেও জোর প্রচার চালায়।সেই সব ভাই-বোন যারা কিনা ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’ কথাটার সাদৃশ্যে মক্কা ও মদীনা শরীফেও মিলাদ হয়না কথাটা কারো কাছ থেকে শুনেই হই-হুল্লোড় বাধিয়ে ফেলেন।ঐ সব ভাই ও বোনসহ সকল ভাই বোনদের জন্য নিচে দেয়া আমাদের কাছে থাকা দুটি ভিডিও ক্লিপ।যা কিনা মদিনা শরীফে অবস্থিত মসজিদে নববীতে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা,ইয়া রাসূল সালাম আলাইকা” বাক্যযোগে পঠিত ক্বিয়াম।আশা করি ভিডিও ক্লিপগুলো স্বচক্ষে দেখার পর আমাদের অনেক ভাই ও বোনদের অতীতের ভূল সংশোধন হবে।আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুক।(আমিন)

মাযহাবের ভিন্নতা কি ধর্মের বিভক্তি?

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না”

লিখেছেন,মুহাম্মদ তামীম রায়হান

সম্পাদনায়,মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

হজ্ব থেকে ফেরার পর কোনো এক হাজী সাহেবকে জিজ্ঞেস করা হলো, মক্কায় কেমন দেখলেন? তিনি একটু ভাব নিয়ে বললেন, মক্কায় গিয়ে দেখি, খালি আযানটা দেয় বাংলায়, আর বাকি সবই কেমন যেন মনে হলো।

বেচারা হাজী সাহেব যে আযান সবসময় নিজের গ্রামে শোনেন, সে আযানই মক্কায় শুনতে পেয়ে ভাবলেন, এটা তো বাংলাদেশের বাংলা আযান। বাকি নামায অন্যান্য ইবাদত তো অন্যরকম- তাই এ নিয়ে তিনি সন্দিহান।

সাধারণত বাংলাদেশের কোনো মসজিদে যদি কেউ হানাফি ছাড়া অন্য মাযহাবের নিয়মে নামায পড়ে তবে সবাই হা করে Read the rest of this entry

হৃদয়সংলগ্ন তিরিশটি আমল

“প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না”

লিখেছেন,মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী

 ১- আল্লাহ তায়ালার ওপর ঈমান আনা
আল্লাহকে বিশ্বাস করা এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনার অর্থ শুধু আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব স্বীকার করা নয়; বরং অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে তিনি যে অনাদি, অনন্ত, চিরঞ্জীব তা স্বীকার করা। তার সিফাত অর্থাৎ মহৎ গুণাবলি স্বীকার করা এবং তিনি যে এক, অদ্বিতীয়, সর্বশক্তিমান ও দয়াময় এটাও স্বীকার করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এবাদতের যোগ্য নয় একথা বিশ্বাস করা।

২- সবই আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট এর ওপর ঈমান রাখা
প্রত্যেক মুসলমানকে এ বিষয়ে অকাট্য বিশ্বাস ও ঈমান রাখতে হবে যে, ভাল-মন্দ ছোট বড় সমস্ত বিষয় ও বস্তুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। সৃষ্টিকর্তা হিসেবে একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ নেই।

৩- ফেরেশতা সম্পর্কে ঈমান রাখা
ফেরেশতাগণ নিস্পাপ, তারা আল্লাহর প্রিয় ও ফরমাবরদার বান্দা। কোন কাজেই তারা বিন্দুমাত্র নাফরমানি করে না এবং  তাঁদের আল্লাহপ্রদত্ত ক্ষমতাও Read the rest of this entry

%d bloggers like this: