রোযা রাখার উদ্দেশ্য

“প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না”

লিখেছেন,সৈয়দ গোলাম মোরশেদ

আত্মশুদ্ধির এক সুন্দর ও গঠনমূলক দিকনির্দেশনা সিয়াম সাধনার মধ্যে নিহিত। সায়েম অর্থাৎ রোজাদার কোন কোন বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকবে? আমরা জানি, রমজান মাসে সূর্যোদয় থেকে রাত পর্যন্ত পানাহার, শারীরিক সংসর্গ ইত্যাদি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ ওইসব বিষয়বস্তু মানুষের একান্ত প্রয়োজনীয়, যা পবিত্র ধর্মমতে কিছুতেই অবৈধ নয়। পবিত্র কুরআনে অনেক কর্মকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এগুলো থেকে সর্বাবস্থায় বিরত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এমন ভাববার বিষয় হচ্ছে, বৈধ কিছু কর্মকে রমজান মাসে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য অবৈধ ঘোষণা করা হলো কেন? এ সাময়িক বিরত থাকার মধ্যে কি শিক্ষা বা দর্শন নিহিত রয়েছে? এ সম্যক জ্ঞান বা দর্শন যদি সায়েম তার সাধনার মাধ্যমে অর্জন করতে না পারে তাহলে তার রোজা বা সিয়াম নিছক উপবাস ছাড়া অন্য কিছু নয়।

আমরা পূর্বেও উল্লেখ করেছি, বিষয়বস্তু কখনো কলুষিত নয়, বরং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। নফসে আম্মারা যখন মোহাবিষ্ট হয়ে কোনো বিষয়বস্তু বা ব্যক্তিকে গ্রহণ বা ধারণ করে, অথবা তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে যায় তখনই সে বস্তু বা ব্যক্তি তার জন্য তাগুত হয়ে যায়। তাই সিয়াম সাধনা হচ্ছে বিষয়বস্তুর প্রভাব বা মোহ মুক্ত হওয়ার এক প্রকৃষ্ট আত্মিক সাধনা। আমরা পূর্বে নফসে আম্মারা বা ষড়রিপুর কথা বলেছি। সিয়াম সাধনা হচ্ছে ষড়রিপুর প্রভাব মুক্ত হয়ে নফসে লাওয়ামা তথা অনুতাপশীল আত্মায়, অতঃপর পরিশুদ্ধ আত্মায় পরিণত হবার ঐশী সাধনা।

সিয়াম সাধনায় আত্মশুদ্ধির দর্শন বা শিক্ষা থেকে আজ আমরা অনেক দূরে। শুধু উপবাস থাকাকেই আমরা সিয়াম সাধনা মনে করে থাকি। আমাদের আলেম-ওলামা ও পীর মোশায়েখরাও আমাদের এ মহান আদর্শ ও শিক্ষা থেকে দূরে রেখেছেন। ত্যাগ ও বর্জনের এ মহান আদর্শের মধ্যে তাদেরকেও দেখা যায় না। ভোগবাদের মধ্যে আমরা আপাদমস্তক এমনভাবে ডুবে আছি যে, ত্যাগ ও বর্জনের কথা চিন্তায়ও আসে না।

যে কথা বলছিলাম, বৈধ কিছু বিষয়বস্তুর ভোগবিলাস থেকে রমজানের প্রতিটি দিনের কিছুটা সময় আমাদের বিরত থাকার নির্দেশ আল্লাহপাক কেন দিয়েছেন? ত্যাগ ও বর্জনের অনুশীলনের মাধ্যমে সমস্ত বস্তু-আকর্ষণ থেকে মুক্ত হয়ে একমাত্র রাব্বুল আলামিনের দিকে মুখাপেক্ষি হয়ে থাকার প্রশিক্ষণ সিয়াম সাধনার মধ্যে নিহিত রয়েছে।

‘আমানু’ শব্দের অর্থ যাঁরা ঈমান এনেছে। শুধু মুখে ঈমান আনা এবং আনুষ্ঠানিক ইবাদত সম্পন্নকারীকে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে সত্যিকার ঈমানদার হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। যারা বিশ্বাসে, চিন্তায়, চেতনায় এবং কর্মের মাধ্যমে ঈমানের কাজ সম্পন্ন করেন এবং আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জান ও মাল উৎসর্গ করে সেবাব্রতে আত্মনিয়োগ করেন, আল্লাহর ভাষায় তারাই মুমিন। যেমন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘ইয়া আইউহাল্লাজিনা আমানু বিল্লাহে ওয়া রাসুলিহি ওয়াল কিতাবিল্লাজি নাজ্জালা’। অর্থাৎ, হে যারা ঈমান এনেছো (বলে বলছো) তোমরা (পুনরায়) ঈমান আনো (বিশ্বাস এবং কর্মের মাধ্যমে) আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা প্রতি এবং তিনি যে কিতাব নাজিল করেছেন তার প্রতি (অর্থাৎ তাঁর আদেশ-নিষেধ বাস্তবায়নের মাধ্যমে)। সুরা নিছা : ১৩৬

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা বলেছেন,

‘লাইছা মুমিনু মাহ মাউনা ফিল মাসজিদি ইয়াকুলুনা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসলুলুল্লাহ বারছাহি ফাহুয়া মুনাফিকুন’।

অর্থ : ওই সকল লোক মুমিন দলভুক্ত নয় যারা মসজিদে সমবেত হয়ে বাহ্যভাবে (মুখে, অন্তঃকরণে নয়) কালেমা পাঠ করে থাকে- যেহেতু ওই সমস্ত লোক মুনাফিক বা কপট (হাদিসে কুদসি)।

‘মান কালা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ আলফা আলফা মাররাতিহন বিলা তাহকিক ফাহুয়া কাফিরুন’।

অর্থাৎ, যদি কেউ সত্যোপলব্ধি ব্যতীত হাজার বারও কালেমা পাঠ করে তবুও সে কাফের। পবিত্র কুরআনেও এরকম অনেক আয়াত বিদ্যমান যাতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, শুধু মুখে স্বীকৃতি দিলে ও আনুষ্ঠানিকতা পালন করলেই ঈমানদার হওয়া যায় না।

‘তোমাদের ওপর সিয়াম কেতাবস্থ করা হলো’ (২:১৮৩)-

এ কথার অর্থ এ নয় যে, কাগজ-কালির মাধ্যমে বই আকারে তা প্রকাশ করা হলো। ‘কেতাব’ অর্থে এখানে আমানুর দেহ এবং মনকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের দেহ ও মনে সিয়ামের সাধনপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

সিয়ামের এ সাধনপদ্ধতি মানবজাতির জন্য অপরিহার্য বিধায় এ ব্যবস্থা সর্বজনীন ও সর্বকালীন।

Advertisements

About ইসলামের বিশুদ্ধ আক্বিদা ও মাসায়েলসমূহ

'আপনিও হোন সঠিক ইসলাম ও আক্বিদার প্রচারক'। প্রবন্ধটি পড়া হলে, নিচের লিংক থেকে Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করুন,।ইসলামের সঠিক আক্বিদার আলো ছড়িয়ে দিন সর্বত্র।কারন রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ইরশাদ করেন যে, "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [মুসলিম শরীফ: ২৬৭৪]

Posted on জুলাই 21, 2012, in ইসলামী জিন্দেগী, ফাযায়েল, বিবিধ, মাসায়েল, রমযান. Bookmark the permalink. মন্তব্য দিন.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: